Hawaii-travel

ঘুরতে যেতে কার না ভালো লাগে? হোক সমুদ্র, পাহাড় কিংবা কোন ঐতিহাসিক স্থান যার পরতে পরতে লুকিয়ে থাকে একেকটা রহস্য।

পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর জায়গা হয়ত কারো কারো মতে ইউরোপ, আলো ঝলমলে আমেরিকা, কারো কারো মতে আবার ইন্দোনেশিয়ার কোনো সুন্দর ছোট্ট দ্বীপ। আবার কমবেশি সবার মতেই হয়ত অন্যতম সুন্দর জায়গা “হাওয়াই দ্বীপ”।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি অঙ্গরাজ্য হাওয়াই যা যুক্তরাষ্ট্রের ৫০ তম অঙ্গরাজ্য হিসেবে ১৯৫৯ সালে অন্তর্ভুক্ত হয়। এর রাজধানী হনলুলু।

এ এমন এক সুন্দর জায়গা যেখানে নীল সমুদ্র আর নীল আকাশ দুইজনের সাথে মিলেমিশে একাকার হয়ে স্বাগতম জানায় তার পর্যটকদের, আকৃষ্ট করে প্রতিনিয়ত।

হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জে ঘুরতে গেলে অবশ্যই সার্ফিং করতে ইচ্ছে হবে আপনার, তাই না? কারণ অনেক মানুষ সারা পৃথিবী হতে এখানকার নীল, সুন্দর গরম পানিতে সার্ফিং করতে আসে, তবে সার্ফিং টা আসলে কি?

সার্ফিং মূলত প্র্যাকটিস এর বিষয়, সাইকেল চালানো শেখা যেমন প্র্যাকটিসের দ্বারা সম্ভব আরও ভালো ও দক্ষ হয়ে উঠা, ঠিক তেমনই সার্ফিং। অনেক এক্সট্রিম ও দুর্ধর্ষ এক স্পোর্ট হল এ সার্ফিং। তাই সাবধান!! হ্যাঁ, ভালো করেই জানি মানুষের নিষিদ্ধ জিনিসের প্রতি আকর্ষণ বেশি থাকে, তাই আপনাদের উত্তেজনা আরো বাড়িয়ে দেয়ার জন্যই এভাবে বলা!

তবে আমাদের সবার মনেই এই প্রশ্ন টা আসবেই, “সার্ফিং যেহেতু এত এক্সট্রিম, তবে করার দরকার টা কি?” আরে ভাই, মানুষের কাছে এক্সট্রিম বলতে কিছু নেই, মানুষ পারে না এমন কোন কাজও নেই। এক্সট্রিম কোন কাজ যখন সফল ভাবে আপনি করে ফেলতে পারবেন, আর কারো কাছে না হোক, আপনার কাছে আপনি বিজয়ী। আপনি সেই অসাধ্য সাধনকারী!

সার্ফিং করে যেমন সাগরের নীলিমায় হারিয়ে যেতে পারেন, এক অদ্ভুত সখ্যতা গড়ে তুলতে পারেন সাগরের সাথে, পাশাপাশি নিজেকে সাথে নিয়ে দিয়ে আসবেন এক অসাধারন এডভেঞ্চারাস টুর! যদি আপনি আগে থেকেই সার্ফিং পেরে থাকেন তবে বাতাস আর সমুদ্র স্রোতের কথা মাথায় রেখে নেমে যেতে পারেন আপনার সার্ফিং বোড়ড নিয়ে আর অর্জন করে আনতে পারেন পৃথিবীর অন্যতম সুন্দর স্থান থেকে অন্যতম সুন্দর অভিজ্ঞতা!

সমুদ্র ছাড়াও সেখানে আছে হাইকিং পছন্দ করা ভ্রমনপিপাসুদের জন্য হাইকিং করার মত অসাধারণ কিছু পাহাড়। তাদের মধ্যে অন্যতম হল থ্রি পিকস। তবে আগেই বলে রাখা ভালো, শীতকালে সেখানে অনেক বৃষ্টি পড়ে এবং তার ফলে পাহাড়গুলো অনেক ডেঞ্জারাস হয়ে থাকে। তাই সাবধানতার সাথে ধৈর্য সহকারে হাইকিং করাই শ্রেয়।

হাইকিং করতে করতে আপনার নজর কাড়বে কিছু অসাধারণ ভিউ যা দেখে হয়ত আপনি, আমি, আমরা সবাই মন্ত্রমুগ্ধের মত তাকিয়ে থাকবো। গিরিখাদের ভেতর দিয়ে সুন্দর প্রবাহমান ঝরণায় আপনি চাইলেই গা ভিজিয়ে নিতে পারবেন, কোনটা হয়ত দেখেই সন্তুষ্ট থাকতে হবে কারণ তাতে যেতে হলে জীবনের ঝুঁকি থাকে যার দিকে না আগানোই বুদ্ধিমানের কাজ। চোখে পরবে একদিকে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকা সুবিশাল পাহাড়, অন্যদিকে বিস্তৃত সবুজে ঘেরা খাঁদ, জঙ্গল এবং বিশাল নীল সমুদ্র! হয়ত এরকম ভিউ কল্পনা করে ঘরে বসে থাকাটা দুষ্কর, মন টেনে নিয়ে যাবে সেই সুন্দর সবুজ আর নীলের মিলনমেলা দেখতে, এর আকর্ষণেই হয়ত এত এত ভ্রমনপিপাসু মানুষ এত ঝুঁকি থাকা সত্তেও সেখানে গিয়ে দুদণ্ড ঘুরে আসে। আপনিই বলেন, এমন পাহাড়, সমুদ্রের মিলন মেলা দেখলে কার না গাঁয়ে কাটা দিবে? কার না মন আনচান করবে? সুন্দরের পুজারি তো আমরা সবাই।

আপনারা যেতে পারেন আর একটা হাইকিং করতে যা থেকে দেখতে পাবেন সমুদ্রের মাঝে সুন্দর ছোট্ট দুটি দ্বীপ যাদের নাম “লানেকাই দ্বীপ”। এর আকর্ষণেই মানুষ এখানে হাইকিং করতে যায়।

কত সুন্দর সুন্দর জায়গা অপেক্ষা করছে আপনার পদচারণের জন্য। তাই দেরি না করে এখনই এই সুন্দর, ঐশ্বরিক জায়গা ভ্রমণ করতে চলে আসুন। রোমাঞ্চকর এ ভুবনে আপনাকে স্বাগতম!

ভূঁইয়া শাহরিয়ার রাশিক (২৭ মে, ২১২১)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *